যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণায় প্রশমিত হতে শুরু করেছে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারের উদ্বেগ। উচ্চ মুনাফার সম্ভাবনাযুক্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠছেন বিনিয়োগকারীরা। ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারের বেশিরভাগ সূচক। বিনিময় হার বেড়েছে ডলারের। মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ থেকেও এখন মুনাফা বাড়ছে। এসব ঘটনার সম্মিলিত প্রভাবে নিরাপদ ও আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা এখন পড়তির দিকে। নিম্নমুখী হয়ে উঠেছে মূল্যবান ধাতুটির দাম। খবর রয়টার্স।
স্পট মার্কেটে গতকাল আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম দশমিক ১ শতাংশ কমে পৌঁছে ৩ হাজার ৪২৮ ডলার ৬৯ সেন্টে। যদিও এদিন বেচাকেনার শুরুতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১৬ জুনের পর সর্বোচ্চে পৌঁছেছিল। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম দশমিক ১ শতাংশ কমে নেমেছে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৪৪১ ডলার ৯০ সেন্টে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত চুক্তি অনুযায়ী, জাপান থেকে আমদানি করা গাড়িতে শুল্ক কমানো হবে। পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যে নতুন করে কোনো শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করা হবে না। এর বদলে জাপান যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ ও ঋণ দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অনলাইন বিনিয়োগ প্লাটফর্ম নেমো ডট মানির প্রধান বাজার বিশ্লেষক হ্যান ট্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের দিকে ঝুঁকছে। ফলে আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা কমে গেছে। এছাড়া ডলারের বিনিময় হার কিছুটা বেড়েছে, যা স্বর্ণের দামে প্রভাব ফেলায় পণ্যটির দরপতন হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আগামী সপ্তাহে স্টকহোমে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে চুক্তির সময়সীমা বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এদিকে বিনিয়োগকারীরা এখন নজর রাখছেন ২৯ ও ৩০ জুলাই অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) নীতিনির্ধারণী বৈঠকে। সেখানে সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
স্পট মার্কেটে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে গতকাল রুপার দাম দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে আউন্সপ্রতি ৩৯ ডলার ৩৯ সেন্টে, যা ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। একই সময় প্লাটিনামের দাম দশমিক ৪ শতাংশ কমে স্থির হয় প্রতি আউন্স ১ হাজার ৪৩৬ ডলার ৩৮ সেন্টে। এছাড়া গতকাল প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ২৭০ ডলার ৯৩ সেন্টে। রুপার সরবরাহ-চাহিদার ভিত্তি শক্তিশালী হওয়ায় এর দামে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।